
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের কোষের গঠন, স্নায়ুর কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি ও শরীরে শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জির মতে, মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখা জরুরি। ওমেগা-৩ ফ্যাট, কোলিন, বি ভিটামিন, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ককে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগে ভূমিকা রাখে। চর্বিযুক্ত মাছ, তিসি, চিয়া বীজ ও আখরোট এর ভালো উৎস।
কোলিন অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা স্মৃতি ও স্নায়বিক যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিম, সয়াবিন, টফু, দুধ ও চিনাবাদামে কোলিন পাওয়া যায়।
বি ভিটামিন শরীরে শক্তি উৎপাদন, নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা ও স্নায়ুর সুস্থতায় সহায়তা করে। ডাল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার এর উৎস।
আয়রন মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহন ও স্নায়বিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রয়োজন। ডাল, শিম, তিল, শাকসবজি ও মাংস থেকে আয়রন পাওয়া যায়।
ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ুর স্বাভাবিক সংকেত আদান-প্রদান ও মস্তিষ্কের কোষগুলোর যোগাযোগে ভূমিকা রাখে। বাদাম, বীজ, ডাল, পূর্ণশস্য ও শাকসবজিতে এটি রয়েছে।
এ ছাড়া জিঙ্ক মস্তিষ্কের কোষের সংকেত আদান-প্রদান ও স্বাভাবিক স্নায়বিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ। কুমড়ার বীজ, তিল, শিম, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম ও সামুদ্রিক খাবার জিঙ্কের উৎস।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ডাল, বাদাম, বীজ, পূর্ণশস্য ও বিভিন্ন ধরনের প্রোটিনের উৎস মিলিয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। প্রয়োজন ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরিবর্তে দৈনন্দিন খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।